সাধারণ জ্ঞানঃপর্ব ০১-বাঙালি জাতির বা জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি

সাধারণ জ্ঞানঃপর্ব ০১-বাঙালি জাতির বা জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।সাধারণ জ্ঞান বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসে।তাই আজকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিব।

সাধারণ জ্ঞানঃপর্ব ০১-বাঙালি জাতির বা জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি

সাধারণ জ্ঞানঃপর্ব ০১-বাঙালি জাতির বা জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি  বিষয়ে বিস্তারিত দেখে নিন।

বাঙালি জাতিকে  দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

  1. প্রাক আর্য বা অনার্য জনগোষ্ঠী
  2. আর্য জনগোষ্ঠী।

অনার্য  জনগোষ্ঠীঃ

চারটি শাখায় বিভক্ত ছিল এ জনগোষ্ঠী – নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়। তাদের ‘নিষাদ জাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইন্দোচীন থেকে আসাম হয়ে বাংলায় প্রবেশ করে অস্ট্রিক জাতি নেগ্রিটোদের উৎখাত করে।

আর্য জনগোষ্ঠীঃ

ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে এদের আদিনিবাস ছিল। বর্তমান মধ্য এশিয়ার ইরানে। আর্যরা ছিল সনাতনী ধর্মাবলম্বী । আর ধর্মগ্রন্থের নাম ছিল বেদ।

প্রাচীন বাংলার জনপদ

সাধারণ জ্ঞানঃপর্ব ০১-বাঙালি জাতির বা জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি এর পর বাংলার জনপদ।প্রাচীন যুগে বাংলা (বর্তমানের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ)  কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র  ছিল না। তখন বাংলার বিভিন্ন অংশ বিভক্ত ছিল ছোট ছোট অঞ্চলে। বাংলার  অঞ্চলগুলোকে  সমষ্টিগতভাবে নাম দেওয়া হয় জনপদ।এখান প্রাচীন জনপদ্গুলোর বর্তমান নাম সম্পর্কে জানব।

  • পুণ্ড্র – বৃহত্তর বগুড়া (মহাস্থানগড়), রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল।
  • বরেন্দ্র – রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ।বঙ্গ
  • বঙ্গ-বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল। 
  • চন্দ্রদ্বীপ – বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জ।
  • গৌড় – মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
  • সমতট – বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চংল
  • তাম্রলিপি – হরিকেলের উত্তরে বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকিই ছিল তাম্রলিপির প্রাণকেন্দ্র।
  • রাঢ় – বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দক্ষিণ অংশে ছিল রাঢ়ের অবস্থান। রাঢ়ের আরেক নাম ছিল সুক্ষ্ণ।
  • হরিকেল – পার্বত্য সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল।
  • শ্রীহট্ট – সিলেট অঞ্চল।

জনপদগুলোর বিস্তারিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

  1. প্রাচিনতম  জনপদ হল হলো পুণ্ড্র।
  2. ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়।
  3. মোগল সম্রাট আকবরের সভাকবি আবুল ফজল তাঁর ‘আইন-ই-আকবরি’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম দেশবাচক বাংলা শব্দ ব্যবহার করেন।
  4.  কালিদাসের গ্রন্থে ‘বঙ্গ’ জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
  5. সমতটের রাজধানী ছিল ‘বড় কামতা’।

আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে আমরা সাধারণ জ্ঞানের সকল শাখা থেকে আলোচনা করব।আমাদের BCSwar  এর সোশাল মিডিয়াগুলোতে লাইক,কমেন্ট এবং শেয়ার করুন।ধন্যবাদ সবাইকে।

 

 

Leave a Reply