মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত

মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত

মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত সেটা নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব।তার আগে আমাদের জানতে হবে মুহাররাম কি?আশুরা কি?মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত নিয়েই বিশদ আলোচনা করব।

মুহাররাম কি?

আরবি মাস হলো ১২ টি। এই ১২ মাসের মধ্যে চারটি  হলো‘হারাম’ মাস:

১।মুহাররাম,

২।রজব

৩। যিলকাদ

৪। যিলহাজ্জ্ব

মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত

এ চারটি মাস ইসলামী শরীয়তে বিশেষভাবে সম্মানিত মাস।এ মাসগুলোতে ঝগড়াঝাটি বা যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ।

মহান  আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: ‘‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন হতেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনায় মাস বারটি, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ নিষিদ্ধ মাসগুলোর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না”।

 মুহাররাম মাসের ১০ তারিখ ‘আশূরা’র দিন। এ দিনে সিয়াম পালনের বিশেষ ফযীলত রয়েছে।রাসূল (সা)  আশূরার সিয়াম সম্পর্কে  বলেন:

أفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ

অর্থঃ রমজান মাসের পরে সর্বোত্তম সিয়ামের মাস হল মুহাররাম মাস

হাদিসে আরো আছে,

يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ

অর্থঃ এ দিনের সিয়ামে গত বছরের পাপ মার্জনা করে।

মুহাররামের ১০ তারিখ অর্থাৎ ১০ম দিনকে আশুরা বলা হয়।এদিনে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ) এবং তার জাতিকে ফেরয়াউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

মুহাররাম মাসে কি কাজ করণীয় এবং কাজের ফজিলত

আশুরার সিয়ামের ফজিলতঃ

এদিনে সিয়ামের ফজিলত অনেক। মহানবী( স) বলেছেন,  রমজান মাসের পরে সর্বোত্তম সিয়ামের মাস হল মুহাররাম মাস।

রাসুলুল্লাহ (স) আরও বলেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোযা রাখবে, সে ৬০ বৎসর রোযা নামায করার সমতুল্য সওয়াব পাবে।

মহানবী হিজরতের পরে দেখেন এই দিনে ইহুদীরা সিয়াম পালন করছে।তখন রাসূল (স)  বলেছেন-আমরা মূসার অনুসরণ করার ব্যাপারে তোমাদের চাইতে অধিক হকদার।রাসূল (সা) নিজে সে দিনে সিয়াম পালন করলেন এবং সাহাবীদের ও নির্দেশ দিলেন।( বুখারী-১৮৬৫)

মুহাররামের ৯ তারিখ সিয়াম পালনঃ

রাসূল( সা) ইহুদীদের ব্যতিক্রম করতে বলেছেন।জেহেতু এ দিনে ইহুদীরা সিয়াম পালন করে তাই ব্যতিক্রম হিসেবে ৯ তারিখেও সিয়াম পালন করা উচিত মুসলমানদের।

হাদীসে আছে, রাসূল (সা)বলেছেন- আমি যদি আগামী বছর বেচে থাকি তাহলে মুহাররামের ৯ ও ১০ তারিখ রোজা রাখব।(সহীহ মুসলিম ১৯১৬)

বর্জনীয় আমলসমূহঃ

এদিন কে কারবালার দিন হিসেবে উদযাপন করা যাবে না।হুসাইন ( রা) এর শাহাদাত এর কথা স্মরণ করে শরীরে আঘাত করা,শরীর রক্তাক্ত করা,তাজিয়া মিছিল বের করা বর্জনীয়।এগুলো রাসূল (সা) ও সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত নয়।

সুতরাং মুহাররাম মাসের গুরুত্ব মুসলমানের নিকট অপরিসীম।

আমাদের পেইজের সাথেই থাকুন।আমাদের সোশাল মিডিয়া গুলোতে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করুন।

ফেইসবুক

টুইটার

ইন্সটাগ্রাম

পিন্টারেস্ট

 

 

মন্তব্য করুন